ভারতের চিকেন নেক (শিলিগুড়ি করিডোর) কী? ইতিহাস, কৌশলগত গুরুত্ব, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও অজানা তথ্য জানুন
ভারতের চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর কী?
ভূমিকা
আপনি কি জানেন, ভারতের এমন একটি সরু ভূখণ্ড রয়েছে যার প্রস্থ মাত্র প্রায় ২০–২২ কিলোমিটার? এই ছোট্ট করিডোরের ওপরই নির্ভর করে ভারতের আটটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সড়ক, রেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই অঞ্চলটি চিকেন নেক (Chicken Neck) বা শিলিগুড়ি করিডোর (Siliguri Corridor) নামে পরিচিত।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই করিডোর ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু পরিবহন ও বাণিজ্যের কেন্দ্র নয়, বরং দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, সামরিক কৌশল, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। তাই একে ভারতের সবচেয়ে সংবেদনশীল কৌশলগত অঞ্চলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই নিবন্ধে আপনি জানতে পারবেন—
- চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর কী
- এটি কোথায় অবস্থিত
- কেন এটি ভারতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ
- এর ইতিহাস ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য
- অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব
- বর্তমান চ্যালেঞ্জ
- সরকার কী কী উদ্যোগ নিয়েছে
- চিকেন নেক সম্পর্কে কিছু অজানা ও চমকপ্রদ তথ্য
আপনি যদি ভারতের ভূগোল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা প্রতিরক্ষা কৌশল সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন, তাহলে এই সম্পূর্ণ গাইডটি আপনার জন্য।
সূচিপত্র (Table of Contents)
1. ভারতের চিকেন নেক (শিলিগুড়ি করিডোর) কী?
2. চিকেন নেক কোথায় অবস্থিত?
3. কেন একে "চিকেন নেক" বলা হয়?
4. শিলিগুড়ি করিডোরের ইতিহাস
5. ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য
6. ভারতের জন্য কৌশলগত গুরুত্ব
7. উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগে এর ভূমিকা
8. অর্থনৈতিক গুরুত্ব
9. নিরাপত্তা ও সীমান্ত সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ
10. পরিবেশগত সমস্যা
11. সরকারের উন্নয়নমূলক উদ্যোগ
12. চিকেন নেক সম্পর্কে অজানা তথ্য
13. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
14. উপসংহার
ভারতের চিকেন নেক (শিলিগুড়ি করিডোর) কী?
চিকেন নেক (Chicken Neck) বা শিলিগুড়ি করিডোর (Siliguri Corridor) হলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরু স্থল করিডোর, যা ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। ভৌগোলিকভাবে এটি ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল অঞ্চল এবং জাতীয় নিরাপত্তা, পরিবহন, বাণিজ্য ও সামরিক কৌশলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই করিডোরের সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ প্রায় ২০–২২ কিলোমিটার। পশ্চিমে নেপাল, পূর্বে বাংলাদেশ এবং উত্তরে ভুটানের নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক করিডোর হিসেবেও পরিচিত।
ভারতের আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং সিকিমের সঙ্গে সড়ক, রেল, জ্বালানি সরবরাহ এবং পণ্য পরিবহনের একটি বড় অংশ এই করিডোরের ওপর নির্ভরশীল।
কেন একে "চিকেন নেক" বলা হয়?
এই করিডোরটি মানচিত্রে দেখতে অনেকটা মুরগির গলার (Chicken Neck) মতো সরু হওয়ায় এর নাম হয়েছে চিকেন নেক।
এটি কোনো সরকারি নাম নয়; বরং ভৌগোলিক আকৃতির কারণে ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় নাম। সরকারি নথি ও মানচিত্রে অঞ্চলটি শিলিগুড়ি করিডোর (Siliguri Corridor) নামে পরিচিত।
চিকেন নেক কোথায় অবস্থিত?
শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তরাংশে অবস্থিত। এটি মূলত শিলিগুড়ি শহরকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত একটি সরু ভূমি।
এর চারপাশের অবস্থান সংক্ষেপে—
- পশ্চিমে: নেপাল
- পূর্বে: বাংলাদেশ
- উত্তরে: ভুটান ও সিকিম
- দক্ষিণে: পশ্চিমবঙ্গের সমতল অঞ্চল
এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই করিডোরটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হয়।
চিকেন নেকের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য
শিলিগুড়ি করিডোরের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ কিলোমিটার। এর সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ প্রায় ২০–২২ কিলোমিটার, যদিও বিভিন্ন স্থানে এই প্রস্থ কিছুটা বেশি।
এই করিডোরের মধ্য দিয়ে একাধিক জাতীয় মহাসড়ক, রেলপথ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো অতিক্রম করেছে। ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি পরিষেবার জন্য এর গুরুত্ব অপরিসীম।
শিলিগুড়ি করিডোরের ইতিহাস
শিলিগুড়ি করিডোরের গুরুত্ব আজকের নয়; এর ইতিহাস ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই শুরু। ব্রিটিশরা উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে এই অঞ্চলে সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ করে। সেই সময় থেকেই শিলিগুড়ি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
১৯৪৭ সালে ভারতের বিভাজনের পর এই করিডোরের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। পূর্ববঙ্গ (বর্তমান বাংলাদেশ) পাকিস্তানের অংশ হয়ে যাওয়ায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে স্থল যোগাযোগের প্রধান পথ হিসেবে শিলিগুড়ি করিডোরই কার্যত একমাত্র নির্ভরযোগ্য সংযোগে পরিণত হয়।
পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত হলেও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য শিলিগুড়ি করিডোরের গুরুত্ব কমেনি। বরং জনসংখ্যা, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
ভারতের জন্য শিলিগুড়ি করিডোর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
শিলিগুড়ি করিডোরকে অনেক সময় ভারতের "লাইফলাইন অব নর্থইস্ট" বলা হয়। কারণ, এই করিডোর ছাড়া ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সরাসরি স্থল যোগাযোগ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
এর প্রধান গুরুত্বগুলো হলো—
১. উত্তর-পূর্ব ভারতের একমাত্র প্রধান স্থল সংযোগ
আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা এবং সিকিম—এই আটটি রাজ্যের সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের অধিকাংশ সড়ক ও রেল যোগাযোগ শিলিগুড়ি করিডোরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
২. জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
ভারতের সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার জন্য এই করিডোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনা, অস্ত্র, রসদ এবং জরুরি সামগ্রী দ্রুত পৌঁছে দিতে এই পথের ভূমিকা অপরিসীম।
৩. বাণিজ্য ও অর্থনীতির কেন্দ্র
উত্তর-পূর্ব ভারতের কৃষিপণ্য, চা, কাঠ, ফল, হস্তশিল্প এবং অন্যান্য পণ্য দেশের বিভিন্ন অংশে পৌঁছাতে এই করিডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একইভাবে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উত্তর-পূর্ব ভারতে এই পথেই পরিবহন করা হয়।
৪. আন্তর্জাতিক গুরুত্ব
শিলিগুড়ি করিডোর নেপাল, ভুটান এবং বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি হওয়ায় এটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে BBIN (Bangladesh–Bhutan–India–Nepal) উদ্যোগ এবং অন্যান্য আন্তঃদেশীয় সংযোগ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও এই অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
কেন একে ভারতের "লাইফলাইন" বলা হয়?
শিলিগুড়ি করিডোরের মধ্য দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, শত শত ট্রেন, অসংখ্য ট্রাক এবং বিপুল পরিমাণ পণ্য চলাচল করে। জ্বালানি, খাদ্য, ওষুধ, নির্মাণসামগ্রী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরবরাহের বড় অংশ এই পথ ব্যবহার করে উত্তর-পূর্ব ভারতে পৌঁছায়।
এই কারণে শিলিগুড়ি করিডোরে দীর্ঘ সময়ের জন্য যোগাযোগ ব্যাহত হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, জরুরি পরিষেবা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাই এই অঞ্চলকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের "লাইফলাইন" বলা হয়।
শিলিগুড়ি করিডোরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব
শিলিগুড়ি করিডোর শুধু একটি যোগাযোগ পথ নয়; এটি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোর। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পণ্য পরিবহনের বড় অংশ এই পথের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
এর প্রধান অর্থনৈতিক গুরুত্ব হলো—
১. বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার
উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে খাদ্যশস্য, ওষুধ, জ্বালানি, নির্মাণসামগ্রী, ইলেকট্রনিক্স এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এই করিডোরের মাধ্যমে পৌঁছে।
২. চা শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
দার্জিলিং, ডুয়ার্স এবং আসামের বিখ্যাত চা দেশের বিভিন্ন অংশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর ক্ষেত্রে শিলিগুড়ি করিডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩. পর্যটনের বিকাশ
দার্জিলিং, কালিম্পং, সিকিম, ডুয়ার্স এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়ার অন্যতম প্রধান স্থলপথ এই করিডোর। ফলে পর্যটন শিল্পের বিকাশেও এর বড় ভূমিকা রয়েছে।
৪. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সম্ভাবনা
নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের নিকটবর্তী হওয়ায় ভবিষ্যতে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকস খাতে এই করিডোরের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।
শিলিগুড়ি করিডোরের প্রধান চ্যালেঞ্জ
গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি এই অঞ্চল বিভিন্ন সমস্যারও মুখোমুখি।
অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ
ক্রমবর্ধমান যানবাহন ও পণ্য পরিবহনের কারণে অনেক সময় সড়ক ও রেলপথে চাপ বৃদ্ধি পায়।
নিরাপত্তাজনিত গুরুত্ব
সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সবসময় শক্তিশালী রাখতে হয়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ
ভারী বৃষ্টি, বন্যা এবং ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক কারণে কখনও কখনও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে।
পরিবেশগত সমস্যা
দ্রুত নগরায়ন, বন উজাড় এবং অবকাঠামো নির্মাণের ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সরকারের উন্নয়নমূলক উদ্যোগ
ভারত সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি শিলিগুড়ি করিডোরের যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য -
- জাতীয় মহাসড়কের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ
- নতুন রেললাইন ও ডাবল ট্র্যাক নির্মাণ
- সেতু ও ফ্লাইওভার নির্মাণ
- সীমান্ত এলাকায় যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন
- উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত সংযোগ স্থাপনে বিভিন্ন সড়ক ও রেল প্রকল্প
এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো যোগাযোগ আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য করা।
ভারতের চিকেন নেক সম্পর্কে ১০টি অজানা তথ্য
১. চিকেন নেকের সরকারি নাম শিলিগুড়ি করিডোর (Siliguri Corridor)।
২. এর সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র প্রায় ২০–২২ কিলোমিটার।
৩. এই করিডোর ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে।
৪. করিডোরটির পশ্চিমে নেপাল, পূর্বে বাংলাদেশ এবং উত্তরে ভুটানের নিকটবর্তী এলাকা অবস্থিত।
৫. ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল ও সড়ক যোগাযোগ এই করিডোরের মধ্য দিয়েই পরিচালিত হয়।
৬. দার্জিলিং, সিকিম ও ডুয়ার্স ভ্রমণের জন্য এই অঞ্চল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার।
৭. উত্তর-পূর্ব ভারতে জ্বালানি, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বড় অংশ এই করিডোর ব্যবহার করে পৌঁছায়।
৮. ভারতের প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনায় শিলিগুড়ি করিডোরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
৯. এই অঞ্চলটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংযোগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
১০. ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার কারণে শিলিগুড়ি করিডোরকে ভারতের অন্যতম কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে ধরা হয়।
উপসংহার
ভারতের চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর শুধু একটি সরু ভূখণ্ড নয়; এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থল সংযোগ। অর্থনীতি, পরিবহন, বাণিজ্য, পর্যটন এবং জাতীয় নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই করিডোরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন মহাসড়ক, আধুনিক রেলপথ এবং সীমান্ত সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে এই অঞ্চলের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যতেও শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে তার অবস্থান ধরে রাখবে।
আপনি যদি ভারতের ভূগোল, সীমান্ত, উত্তর-পূর্বাঞ্চল বা কৌশলগত বিষয় সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন, তাহলে এই করিডোর সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. ভারতের চিকেন নেক কী?
ভারতের চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর হলো পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত একটি সরু স্থল করিডোর, যা ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে।
২. চিকেন নেক কোথায় অবস্থিত?
এটি পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি অঞ্চলে অবস্থিত। এর পশ্চিমে নেপাল, পূর্বে বাংলাদেশ এবং উত্তরে ভুটান ও সিকিমের নিকটবর্তী এলাকা রয়েছে।
৩. একে চিকেন নেক বলা হয় কেন?
মানচিত্রে এই করিডোরের আকৃতি অনেকটা মুরগির গলার মতো সরু হওয়ায় একে জনপ্রিয়ভাবে "চিকেন নেক" বলা হয়।
৪. চিকেন নেকের সরকারি নাম কী?
এর সরকারি ও প্রচলিত প্রশাসনিক নাম হলো শিলিগুড়ি করিডোর (Siliguri Corridor)।
৫. চিকেন নেক কত কিলোমিটার চওড়া?
সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ প্রায় ২০–২২ কিলোমিটার।
৬. কোন কোন রাজ্য এই করিডোরের মাধ্যমে সংযুক্ত?
আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং সিকিম।
৭. শিলিগুড়ি করিডোর কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ, বাণিজ্য, পর্যটন, জ্বালানি সরবরাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৮. এই করিডোরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব কী?
পণ্য পরিবহন, চা শিল্প, পর্যটন এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বাণিজ্যিক সংযোগের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর।
৯. চিকেন নেকের প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?
অবকাঠামোর ওপর চাপ, নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং পরিবেশগত সমস্যা।
১০. ভবিষ্যতে এই করিডোরের গুরুত্ব কি আরও বাড়বে?
হ্যাঁ। বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, সীমান্ত সংযোগ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে এর গুরুত্ব আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও জানুন (বিশ্বস্ত তথ্যসূত্র)
- উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (MDoNER) – উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি তথ্য।
- সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয় (MoRTH) – জাতীয় মহাসড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পর্কিত তথ্য।
- সার্ভে অব ইন্ডিয়া (Survey of India) – ভারতের সরকারি মানচিত্র ও ভৌগোলিক তথ্য।
- ভারত সরকারের অফিসিয়াল পোর্টাল – বিভিন্ন সরকারি তথ্য ও পরিষেবা।
- ওপেন গভর্নমেন্ট ডেটা (Data.gov.in) – ভারতের সরকারি উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার ও পরিসংখ্যান।
সম্পর্কিত আরও পড়ুন
- আগরতলা: ত্রিপুরার রাজধানী সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য
- আগরতলার সেরা হোটেল – ভ্রমণ গাইড ২০২৬
- আমেরিকা দেশ নাকি মহাদেশ? বিস্তারিত জানুন
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন
(
Atom
)

কোন মন্তব্য নেই :
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন